যেভাবে ছাত্রনেতা থেকে চট্টলবীর হয়ে ওঠলেন এবিএম মহিউদ্দীন

gmr

Publish Date :
Publish On : 1 month ago

বন্দরনগরীর প্রতিটি আনাচে-কানাচে জড়িয়ে আছে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনের স্মৃতি। আন্দোলন সংগ্রাম থেকে উন্নয়ন সব জায়গায় ছিলো তার অবদান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও অনন্য অবদান রাখেন এই তরুণ মুক্তিযোদ্ধা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই করেন তিনি। ১৯৪৪ সালের পহেলা ডিসেম্বর উত্তর চট্টগ্রামে রাওজান উপজেলার গোহিরা গ্রামের জন্ম নেয়া মহিউদ্দিন চটগ্রামে ‘চট্টলবীর’ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা হলেও অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের কাছেও সমান জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন তৎকালীন ছাত্রনেতা মহিউদ্দীন। ছাত্র জীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ চারমাস পাকিস্তানিদের হাতে আটক ছিলেন তিনি। পরে কারাগার থেকে পালিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের পর শ্রমিকলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত চট্টগ্রামের কোতোয়ালী আসনের নৌকা প্রতীকের নির্বাচন করেও সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি। তবে ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ম মেয়র নির্বাচনে তিনি পরাজিত করেন বিএনপির প্রার্থী মীর নাসিমকে। ২০০৫ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সরকারের প্রতিমন্ত্রী মীর নাসিরকে আবারো পরাজিত করে তৃতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হন মহিউদ্দীন চৌধুরী। কর্ণফুলী নদীকে রক্ষার জন্য ঝুলন্ত সেতুর দাবি তুলেন তিনি। তার দাবির মুখে ঝুলন্ত সেতুর অনুকরণে শাহমরত সেতুর নির্মাণ করতে বাধ্য হয় তৎকালীন বিএনপি সরকার। ২০১০ সালের অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত হন তারই শিষ্য এম মঞ্জুর আলমের কাছে, তবে থেমে থাকেনি তিনি। চট্টগ্রামবাসীর নানা অধিকার নিয়ে চালিয়ে যান তার আন্দোলন কর্মসূচি। চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত ও এবং পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক অবদান রাখেন তিনবারের নির্বাচিত মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী।

Related Videos

CLOSE
CLOSE